সুদহার কমানো অব্যাহত রাখতে পারে ইসিবি

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) আগামী মাসগুলোয় সুদহার কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) আগামী মাসগুলোয় সুদহার কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এর পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি ও ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরো ৭৫ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমে সুদহার ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। খবর ইউরো নিউজ।

গত সপ্তাহের শেষে ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে ইসিবি। এ নিয়ে গত এক বছরে সপ্তমবারের মতো সুদহার কমানো হয়েছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন। সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশিত হলেও ইসিবির গভর্নিং কাউন্সিল ও প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা লাগার্দের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে ভবিষ্যতে সুদহার আরো কমতে পারে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবিএন আমরোর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জান-পল ভ্যান ডি কেরকে বলেছেন, গভর্নিং কাউন্সিলের বক্তব্য যথেষ্ট নমনীয়। বাণিজ্য উত্তেজনা, আর্থিক বাজারে নেতিবাচক মনোভাব ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের মতো ঝুঁকিগুলো এখন ইসিবিকে প্রবৃদ্ধি সহায়তায় অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট লাগার্দে বারবার বলেছেন, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যনির্ভর ও প্রতিটি সভায় আলাদা করে সেগুলো মূল্যায়ন করে নেয়া হবে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার আগেই কিছু সদস্য সুদহার অপরিবর্তন রাখার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত থেকে সহজেই বোঝা যায়, ইসিবির অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে।’

ইসিবির সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরাও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ওভারনাইট সোয়াপ চুক্তির মাধ্যমে বাজারে চলতি বছরের বাকি সময়ে মোট ৬৬ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে জুনেই ২২ বেসিস পয়েন্ট কমার পূর্বাভাস দিচ্ছেন অনেকেই।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির প্রধান অর্থনীতিবিদ কার্স্টেন ব্রেজেস্কি বলেন, ‘ইসিবির সাম্প্রতিক বার্তায় দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত স্পষ্ট।’ প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদহার ১ দশমিক ৭৫ শতাংশে নামতে পারে।

ড্যানস্কে ব্যাংক আরো সাহসী পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরবর্তী তিনটি সভায় প্রতিবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদহার কমানো হতে পারে। তবে এপ্রিল বা মে মাসে ব্যবসা কার্যক্রম বা মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত দুর্বল তথ্য এলে ইসিবি একেবারে জুনেই ৫০ বেসিস পয়েন্ট হার কমাতে পারে।

মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসও সুদহার কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। তারা জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে আরো ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের বিকল্প এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি ইউরোজোনে প্রবৃদ্ধি আরো দুর্বল হয় বা বিশ্ব বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ে, তাহলে সুদহার আরো দ্রুত কমানো হতে পারে।

ইউরোজোনে প্রবৃদ্ধি যখন দুর্বল ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি ক্রমেই কমছে, তখন ইসিবি কতদূর পর্যন্ত সুদহার কমাতে পারে, সেটাই এখন বাজারের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও